Classify urban settlements on proper bases with suitable examples.


নগর বসতির শ্রেণিবিভাগ

নগর বসতির শ্রেণিবিভাগ উপযুক্ত ভিত্তিসহ উদাহরণ

ভূমিকা (Introduction)

নগর বসতি বলতে এমন মানববসতিকে বোঝায় যেখানে অধিকাংশ মানুষ কৃষি বহির্ভূত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন শিল্প, বাণিজ্য, পরিবহন, প্রশাসন, শিক্ষা ও বিভিন্ন পরিষেবামূলক কাজে নিযুক্ত থাকে। নগরায়ণের ফলে শহরগুলির আকার, জনসংখ্যা এবং কার্যাবলির মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়। তাই নগর বসতিগুলিকে তাদের জনসংখ্যা, কার্যাবলি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরিকল্পনার ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। ভারতের ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, কোনো বসতির জনসংখ্যা কমপক্ষে ৫,০০০ জন, জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪০০ জনের বেশি এবং কর্মরত পুরুষ জনসংখ্যার কমপক্ষে ৭৫% কৃষি বহির্ভূত কাজে নিয়োজিত থাকলে তাকে নগর বসতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

১. জনসংখ্যার ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ (Classification on the Basis of Population)

(i) ছোট শহর (Small Town)

যেসব নগর বসতির জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং নগরীয় পরিষেবা ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সীমিত থাকে, সেগুলিকে ছোট শহর বলা হয়। এই ধরনের শহরে সাধারণত স্থানীয় বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কিছু মৌলিক পরিষেবা বিদ্যমান থাকে। এদের প্রভাবক্ষেত্রও অপেক্ষাকৃত ছোট হয়।

উদাহরণ: কালিম্পং।

(ii) মাঝারি শহর (Medium Town)

মাঝারি শহরগুলিতে জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ছোট শহরের তুলনায় বেশি হয়। এখানে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। এই শহরগুলি পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

উদাহরণ: বহরমপুর।

(iii) বৃহৎ শহর (Large City)

বৃহৎ শহরে জনসংখ্যা অনেক বেশি এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় হয়। এখানে শিল্প, বাণিজ্য, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন দেখা যায়। বৃহৎ শহরগুলি সাধারণত একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উদাহরণ: কলকাতা।

(iv) মহানগর (Metropolitan City)

যেসব শহরের জনসংখ্যা ১০ লক্ষের বেশি এবং যেখানে উন্নত নগর অবকাঠামো, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বহুমুখী অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বিদ্যমান থাকে, সেগুলিকে মহানগর বলা হয়। মহানগরগুলি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদাহরণ: দিল্লি, মুম্বই।

(v) মেগাসিটি (Megacity)

যেসব নগরের জনসংখ্যা ১ কোটিরও বেশি, সেগুলিকে মেগাসিটি বলা হয়। এই ধরনের শহরগুলি বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

উদাহরণ: টোকিও, মুম্বই।

২. কার্যাবলির ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ (Classification on the Basis of Function)

(i) প্রশাসনিক নগর (Administrative Town)

যেসব শহর মূলত প্রশাসনিক কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এবং যেখানে সরকারি দপ্তর, সচিবালয় ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলির আধিক্য থাকে, সেগুলিকে প্রশাসনিক নগর বলা হয়।

উদাহরণ: নয়াদিল্লি।

(ii) শিল্পনগর (Industrial Town)

শিল্পকারখানা ও উৎপাদনমূলক কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে যে নগরগুলির বিকাশ ঘটে, সেগুলিকে শিল্পনগর বলা হয়। এই শহরগুলিতে শ্রমিক, কাঁচামাল এবং পরিবহন সুবিধার সমন্বয় দেখা যায়।

উদাহরণ: জামশেদপুর।

(iii) বাণিজ্যিক নগর (Commercial Town)

যেসব শহর বাণিজ্য, ব্যবসা, ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে, সেগুলিকে বাণিজ্যিক নগর বলা হয়।

উদাহরণ: মুম্বই।

(iv) খনিনগর (Mining Town)

খনিজ সম্পদ আহরণ ও সংশ্লিষ্ট শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নগরকে খনিনগর বলা হয়। এই ধরনের শহর সাধারণত খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলে বিকশিত হয়।

উদাহরণ: ধানবাদ।

(v) পরিবহন নগর (Transport Town)

গুরুত্বপূর্ণ রেল, সড়ক, বন্দর বা বিমান যোগাযোগ কেন্দ্রকে ঘিরে যে শহরের বিকাশ ঘটে, তাকে পরিবহন নগর বলা হয়।

উদাহরণ: খড়গপুর।

(vi) শিক্ষানগর (Educational Town)

যেসব শহর শিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিখ্যাত এবং যেখানে বহু বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত, সেগুলিকে শিক্ষানগর বলা হয়।

উদাহরণ: শান্তিনিকেতন।

(vii) ধর্মীয় নগর (Religious Town)

ধর্মীয় গুরুত্ব, তীর্থস্থান বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কারণে বিকশিত শহরকে ধর্মীয় নগর বলা হয়।

উদাহরণ: বারাণসী।

(viii) পর্যটন নগর (Tourist Town)

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন বা সাংস্কৃতিক আকর্ষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শহরকে পর্যটন নগর বলা হয়।

উদাহরণ: দার্জিলিং।

৩. অবস্থানের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ (Classification on the Basis of Location)

(i) সমভূমির নগর (Plain Town)

সমতল ভূমিতে অবস্থিত শহরগুলি পরিবহন, কৃষি ও শিল্প বিকাশের জন্য অনুকূল হওয়ায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

উদাহরণ: কলকাতা।

(ii) পার্বত্য নগর (Hill Town)

পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত শহরগুলি সাধারণত পর্যটন, স্বাস্থ্যকর জলবায়ু এবং প্রশাসনিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত।

উদাহরণ: শিমলা।

(iii) উপকূলীয় নগর (Coastal Town)

সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত শহরগুলি বন্দর, মৎস্যচাষ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ: চেন্নাই।

(iv) নদীতীরবর্তী নগর (River-side Town)

নদীর তীরে গড়ে ওঠা শহরগুলি জল পরিবহন, বাণিজ্য এবং কৃষির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদাহরণ: পাটনা।

৪. পরিকল্পনার ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ (Classification on the Basis of Planning)

(i) পরিকল্পিত নগর (Planned Town)

যেসব শহর পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা, আবাসন, শিল্পাঞ্চল ও পরিষেবামূলক কেন্দ্র স্থাপন করে গড়ে তোলা হয়, সেগুলিকে পরিকল্পিত নগর বলা হয়।

উদাহরণ: চণ্ডীগড়।

(ii) অপরিকল্পিত নগর (Unplanned Town)

যেসব শহর দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়েছে এবং যেখানে পরিকল্পনার অভাবে জনসংখ্যার চাপ, যানজট ও অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা যায়, সেগুলিকে অপরিকল্পিত নগর বলা হয়।

উদাহরণ: পুরাতন দিল্লি।

উপসংহার (Conclusion)

নগর বসতির শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন শহরের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। জনসংখ্যা, কার্যাবলি, অবস্থান এবং পরিকল্পনার ভিত্তিতে নগরগুলির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব হয়। তাই নগর ভূগোলের ক্ষেত্রে নগর বসতির শ্রেণিবিভাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়।

Urban Settlement Classification of Urban Settlement Urban Geography Settlement Geography Human Geography Population Geography Geography Notes NCCF Geography BA Geography Urbanization Indian Census Our Geo নগর বসতির শ্রেণিবিভাগ, Urban Settlement Classification, কার্যাবলির ভিত্তিতে নগর, জনসংখ্যার ভিত্তিতে নগর, পরিকল্পিত নগর, অপরিকল্পিত নগর, শিল্পনগর, বাণিজ্যিক নগর, শিক্ষানগর, নগর ভূগোল, Settlement Geography Notes, OurGeo

কোন মন্তব্য নেই: