ভূমিকা
নিচে কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের (CBPBU) স্নাতক (অনার্স) পঞ্চম সেমিস্টারের MDC-3 পত্র "উত্তরবঙ্গের ইতিহাস (১২০০ খ্রিস্টাব্দ – ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ)"-র সম্পূর্ণ সিলেবাস অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনী প্রশ্নাবলি (MCQ) সংকলন করা হলো। সমস্ত ইউনিটের আলোচ্য বিষয়বস্তু থেকে প্রশ্নগুলি নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে বিস্তারিত সঠিক উত্তর উল্লেখ করা আছে। উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, সাল ও ব্যক্তিত্বগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্নগুলি প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইউনিট–১: উত্তরবঙ্গে সুলতানি ও মুঘল শাসন
১. বখতিয়ার খলজি কামরূপ আক্রমণ করেন কত সালে?
(ক) ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১২০৩ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১২০৫ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১২০৩ খ্রিস্টাব্দ — তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খলজি ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে কামরূপে অভিযান চালান। তিনি তিব্বত অভিযানের পথে কামরূপের রাজা প্রথম বিষ্ণুর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন। যদিও তিনি কামরূপ বিজয় করতে পারেননি, তবু এই অভিযান উত্তরবঙ্গের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত।
২. কামতাপুর রাজ্যের বিরুদ্ধে সিকান্দার শাহের আক্রমণ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়?
(ক) ১২৫৭ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৩৫৭ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৩৯০ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৩৫৭ খ্রিস্টাব্দ — ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান সিকান্দার শাহ ১৩৫৭ খ্রিস্টাব্দে কামতাপুর আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে কামতাপুরের রাজা ইন্দ্রনারায়ণের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীকালে বারোভূঁইয়াদের উত্থান ঘটে।
৩. কামতাপুরে বারবক শাহের আক্রমণ কোন সুলতানি শাসকের রাজত্বকালে সংঘটিত হয়?
(ক) ইলিয়াস শাহ
(খ) সিকান্দার শাহ
(গ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
(ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর: (গ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ — বারবক শাহ ছিলেন গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সেনাপতি। তিনি কামতাপুর আক্রমণ করে কামতেশ্বরী দেবীর মূর্তি বিধ্বংস করেন বলে ঐতিহাসিকদের ধারণা।
৪. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ কামতাপুর বিজয় করেন কত সালে?
(ক) ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৫০২ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ — আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে কামতাপুর আক্রমণ করে খেন রাজবংশের শেষ রাজা নীলাম্বরকে পরাজিত করেন। এর ফলে কামতাপুর বাংলা সুলতানির অধীনে আসে এবং হাজোতে বাংলা সুলতানির প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
৫. উত্তর-পূর্ব সীমান্তে মুঘল সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নিচের কোন ব্যক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?
(ক) মির্জা নাথান
(খ) মান সিংহ
(গ) মির জুমলা
(ঘ) উপরোক্ত সকলেই
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরোক্ত সকলেই — মুঘল সম্রাট আকবরের সময় মান সিংহ আসাম ও কামরূপে অভিযান চালান। পরবর্তীকালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে মির জুমলা ১৬৬২-১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে আসাম আক্রমণ করেন। মির্জা নাথন "বাহারিস্তান-ই-গায়বি" গ্রন্থে এই অঞ্চলের মুঘল অভিযানের বিবরণ দিয়েছেন।
ইউনিট–২: খেন ও কোচ রাজবংশ
৬. খেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
(ক) চক্রধ্বজ
(খ) নীলধ্বজ
(গ) নীলাম্বর
(ঘ) বিশ্বসিংহ
সঠিক উত্তর: (খ) নীলধ্বজ — নীলধ্বজ ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে খেন রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৪৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তিনি কামতাপুরকে রাজধানী করে কামতা রাজ্যের পতনোন্মুখ শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
৭. খেন রাজবংশের শেষ রাজা কে ছিলেন?
(ক) নীলধ্বজ
(খ) চক্রধ্বজ
(গ) নীলাম্বর
(ঘ) ধর্মনারায়ণ
সঠিক উত্তর: (গ) নীলাম্বর — নীলাম্বর ১৪৮০ থেকে ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তিনি ছিলেন খেন রাজবংশের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী রাজা। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন হুসেন শাহের আক্রমণে তিনি পরাজিত হন এবং খেন রাজবংশের অবসান ঘটে।
৮. কোচ রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বসিংহের রাজত্বকাল কত থেকে কত?
(ক) ১৫০০-১৫২৫ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৫১৫-১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৫২২-১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৫৪০-১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৫১৫-১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ — বিশ্বসিংহ ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে কোচ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে উত্তরবঙ্গ ও আসামের বৃহৎ অঞ্চলে কোচ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
৯. কোচ রাজ্যের স্বর্ণযুগ বলা হয় কার রাজত্বকালকে?
(ক) বিশ্বসিংহ
(খ) নরনারায়ণ
(গ) প্রাণনারায়ণ
(ঘ) রূপনারায়ণ
সঠিক উত্তর: (খ) নরনারায়ণ — নরনারায়ণের রাজত্বকাল (১৫৪০-১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দ) কোচ রাজ্যের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত। এই সময়ে কোচ রাজ্য সামরিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে চরম উন্নতির শিখরে পৌঁছায়।
১০. কোচ রাজ্য কোন দুটি অংশে বিভক্ত হয়েছিল?
(ক) কোচবিহার ও কোচহাজো
(খ) কামতাপুর ও কামরূপ
(গ) উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ
(ঘ) আসাম ও বাংলা
সঠিক উত্তর: (ক) কোচবিহার ও কোচহাজো — নরনারায়ণের পুত্র লক্ষ্মীনারায়ণ ও শুক্লাধ্বজের মধ্যে উত্তরাধিকার সংঘাতের ফলে কোচ রাজ্য কোচবিহার ও কোচহাজোতে বিভক্ত হয়। পরবর্তীকালে কোচহাজো আহোম রাজ্যের অধীনে চলে যায় এবং কোচবিহার পৃথক রাজ্য হিসেবে টিকে থাকে।
ইউনিট–৩: আধুনিক উত্তরবঙ্গের উদ্ভব
১১. উত্তরবঙ্গ ও উপ-হিমালয় অঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক সম্মেলনের ক্ষেত্রে কোন জনগোষ্ঠীটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?
(ক) রাজবংশী
(খ) মেচ
(গ) কোচ
(ঘ) উপরোক্ত সকলেই
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরোক্ত সকলেই — উত্তরবঙ্গ ও উপ-হিমালয় অঞ্চলে রাজবংশী, মেচ, কোচ, রাভা, লেপচা, তিব্বতি-বর্মন প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক সম্মেলন ঘটে। এই সম্মেলন উত্তরবঙ্গের বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে।
১২. ঔপনিবেশিক অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গে কোন ঘটনাটি প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়?
(ক) প্লাসির যুদ্ধ ১৭৫৭
(খ) দেওয়ানি অধিকার লাভ ১৭৬৫
(গ) বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬৪
(ঘ) দ্বৈত শাসন প্রথার বিলোপ ১৭৭২
সঠিক উত্তর: (খ) দেওয়ানি অধিকার লাভ ১৭৬৫ — ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি অধিকার লাভ করে। এর ফলে উত্তরবঙ্গেও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভাব বিস্তার লাভ করে এবং ১৭৭২ সালের পর প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ শাসন শুরু হয়।
১৩. উত্তরবঙ্গের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ১৮৬৯ সালের কোন ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?
(ক) জলপাইগুড়ি জেলার সৃষ্টি
(খ) কোচবিহারের ব্রিটিশ অধীনে আসা
(গ) দার্জিলিংয়ের ব্রিটিশ অধিকার লাভ
(ঘ) পার্বত্য ত্রিপুরার অন্তর্ভুক্তি
সঠিক উত্তর: (ক) জলপাইগুড়ি জেলার সৃষ্টি — ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে জলপাইগুড়িকে পৃথক জেলা হিসেবে সৃষ্টি করা হয়। এর আগে এটি রংপুর জেলার অংশ ছিল। জলপাইগুড়ি জেলার সৃষ্টি উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।
১৪. ঔপনিবেশিক প্রশাসনের সময় উত্তরবঙ্গের কোন জেলাটি "চা জেলা" হিসেবে পরিচিতি লাভ করে?
(ক) মালদহ
(খ) দার্জিলিং
(গ) কোচবিহার
(ঘ) উত্তর দিনাজপুর
সঠিক উত্তর: (খ) দার্জিলিং — দার্জিলিং ১৮৩৫ সালে চিকিত্সালয় হিসেবে ব্রিটিশদের হাতে আসার পর ধীরে ধীরে চা উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৮৫০-এর দশকে চা বাগান শিল্পের বিকাশের ফলে দার্জিলিং "চা জেলা" হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।
ইউনিট–৪: ১৭৭২ সালের পর কোচবিহার রাজ্যের ইতিহাস
১৫. কোচবিহার রাজ্য কত সালে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদান করে?
(ক) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ — কোচবিহারের মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুর ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর কোচবিহারকে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির দলিল স্বাক্ষর করেন। এর ফলে কোচবিহার পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় রাজ্যে পরিণত হয়।
১৬. কোচবিহার রাজ্যের সমাজব্যবস্থায় কোচবিহারি রাজবংশীদের প্রধান পেশা কী ছিল?
(ক) ব্যবসা-বাণিজ্য
(খ) কৃষিকাজ
(গ) চা বাগানের শ্রমিক
(ঘ) প্রশাসনিক কাজ
সঠিক উত্তর: (খ) কৃষিকাজ — কোচবিহারি রাজবংশী সমাজের প্রধান ভিত্তি ছিল কৃষিকাজ। জমিদারি ও রৈতিক প্রথার অধীনে তারা কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ধান চাষ ছিল তাদের প্রধান জীবিকা।
১৭. কোচবিহার রাজ্যের সংস্কৃতিতে কোন উৎসবটি সর্বাধিক জনপ্রিয়?
(ক) দুর্গাপূজা
(খ) রাসমেলা
(গ) বিহু
(ঘ) তীজ
সঠিক উত্তর: (খ) রাসমেলা — কোচবিহারের মাদনমোহন মন্দিরের রাসমেলা উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধর্মীয় উৎসব। এই রাসমেলা কোচবিহারের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইউনিট–৫: অভিবাসনের ইতিহাস
১৮. উত্তরবঙ্গে চা বাগান শ্রমিক হিসেবে অভিবাসনকারীদের প্রধান উৎস কোন অঞ্চল ছিল?
(ক) বিহার ও উড়িষ্যা
(খ) ছোটনাগপুর ও সাঁওতাল পরগনা
(গ) মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিসগড়
(ঘ) তামিলনাড়ু ও কেরল
সঠিক উত্তর: (খ) ছোটনাগপুর ও সাঁওতাল পরগনা — উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিতে শ্রমিক হিসেবে অধিকাংশ অভিবাসী ছোটনাগপুর মালভূমি ও সাঁওতাল পরগনা অঞ্চল থেকে এসেছিলেন। এই অভিবাসন ১৮৬০-এর দশকে শুরু হয় এবং পরবর্তী দশকগুলিতে তীব্র আকার ধারণ করে।
১৯. অভিবাসনের ফলে উত্তরবঙ্গে কোন নতুন সামাজিক কাঠামোর উদ্ভব ঘটে?
(ক) জমিদারি প্রথা
(খ) বাগানভিত্তিক শ্রমিক সমাজ
(গ) সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা
(ঘ) নগরায়ণ প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর: (খ) বাগানভিত্তিক শ্রমিক সমাজ — চা বাগান ও অন্যান্য বাগান শিল্পের বিকাশের ফলে উত্তরবঙ্গে একটি নতুন বাগানভিত্তিক শ্রমিক সমাজের উদ্ভব ঘটে। এই সমাজ আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে গঠিত ছিল।
২০. অভিবাসনের ফলে উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যায় কোন পরিবর্তন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য?
(ক) জনসংখ্যা হ্রাস
(খ) নগর জনসংখ্যার বৃদ্ধি
(গ) বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর উদ্ভব
(ঘ) একচেটিয়া জাতীয়তার বিকাশ
সঠিক উত্তর: (গ) বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর উদ্ভব — বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ফলে উত্তরবঙ্গে একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। রাজবংশী, নেপালি, বিহারি, মারোয়াড়ি, আদিবাসী প্রভৃতি সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে উত্তরবঙ্গের বিশেষ সামাজিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
ইউনিট–৬: ঔপনিবেশিক অর্থনীতির প্রবর্তন
২১. উত্তরবঙ্গে স্থায়ী বন্দোবস্ত কবে প্রবর্তিত হয়?
(ক) ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ — লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। এই বন্দোবস্তের ফলে উত্তরবঙ্গের কৃষকরা জমিদারদের অধীনে চরম শোষণের শিকার হন এবং ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে।
২২. উত্তরবঙ্গে চা বাগান শিল্পের সূচনা হয় কত সালে?
(ক) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ — ডা. এ. ক্যাম্পবেল ১৮৫০-এর দশকে দার্জিলিংয়ে চা চাষের সূচনা করেন। ১৮৫৬ সালে আলুবাড়ি চা বাগান স্থাপিত হয় এবং ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চল চা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়।
২৩. উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে শিলিগুড়ির উত্থান ঘটে কোন শতাব্দীতে?
(ক) ১৮শ শতাব্দী
(খ) ১৯শ শতাব্দী
(গ) ২০শ শতাব্দী
(ঘ) ২১শ শতাব্দী
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯শ শতাব্দী — ১৯শ শতাব্দীর শেষভাগে শিলিগুড়ি রেলপথ ও সড়ক যোগাযোগের উন্নতির ফলে উত্তরবঙ্গের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। চা, কাঠ, জুট ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে শিলিগুড়ির গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
২৪. উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতিতে কোন ফসলটি "সোনালি তুলা" হিসেবে পরিচিত?
(ক) ধান
(খ) পাট
(গ) চা
(ঘ) তামাক
সঠিক উত্তর: (গ) চা — উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি চা। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় চা উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং একে "সোনালি তুলা" বলা হয়।
ইউনিট–৭: প্রতিবাদ আন্দোলন
২৫. উত্তরবঙ্গে তেভাগা আন্দোলন কত সালে সংঘটিত হয়?
(ক) ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯৪৬-১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯৪৬-১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ — তেভাগা আন্দোলন ১৯৪৬-১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, রংপুর ও জলপাইগুড়ি জেলায় সংঘটিত হয়। কৃষকরা ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দাবি করেন এবং জোতদারদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে।
২৬. উত্তরবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিক আন্দোলনের প্রধান দাবি কী ছিল?
(ক) স্বাধীনতা
(খ) ন্যূনতম মজুরি ও উন্নত জীবনযাত্রার মান
(গ) জমি বণ্টন
(ঘ) শিক্ষার অধিকার
সঠিক উত্তর: (খ) ন্যূনতম মজুরি ও উন্নত জীবনযাত্রার মান — চা-বাগান শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি, উন্নত বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার অধিকার দাবি করে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৫০-এর দশক থেকে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
২৭. উত্তরবঙ্গের কৃষক আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোন সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
(ক) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
(খ) কিষাণ সভা
(গ) মুসলিম লীগ
(ঘ) হিন্দু মহাসভা
সঠিক উত্তর: (খ) কিষাণ সভা — কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন কিষাণ সভা উত্তরবঙ্গের কৃষক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তেভাগা আন্দোলন ও পরবর্তী কৃষক সংগ্রামে এই সংগঠনের নেতৃত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
ইউনিট–৮: জাতীয় আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়
২৮. উত্তরবঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে "নন-কোঅপারেশন" আন্দোলন কত সালে শুরু হয়?
(ক) ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ — মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে নন-কোঅপারেশন আন্দোলন ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই আন্দোলন ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং জনগণ ব্রিটিশ পণ্য বর্জন ও প্রতিষ্ঠান বর্জনে অংশগ্রহণ করেন।
২৯. উত্তরবঙ্গে সভিনয় অবাধ্য আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোন ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?
(ক) চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন
(খ) দার্জিলিংয়ে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন
(গ) জলপাইগুড়িতে স্বরাজ আশ্রম স্থাপন
(ঘ) কোচবিহারে গোলমেজ সম্মেলন
সঠিক উত্তর: (গ) জলপাইগুড়িতে স্বরাজ আশ্রম স্থাপন — ১৯৩০-এর দশকে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, মালদহ ও দিনাজপুরে স্বরাজ আশ্রম স্থাপিত হয়। এই আশ্রমগুলি সভিনয় অবাধ্য আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।
৩০. উত্তরবঙ্গে ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
(ক) সুভাষ চন্দ্র বসু
(খ) মহাত্মা গান্ধী
(গ) জওহরলাল নেহেরু
(ঘ) সরদার পটেল
সঠিক উত্তর: (খ) মহাত্মা গান্ধী — ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট মহাত্মা গান্ধী "করো या मरो" স্লোগান দিয়ে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা করেন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং ব্রিটিশ শাসনবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
ইউনিট–৯: দেশভাগ-পরবর্তী উত্তরবঙ্গের পুনর্গঠন
৩১. দেশভাগের সময় উত্তরবঙ্গের কোন জেলাটি পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়?
(ক) জলপাইগুড়ি
(খ) রংপুর
(গ) দার্জিলিং
(ঘ) কোচবিহার
সঠিক উত্তর: (খ) রংপুর — ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় রংপুর, দিনাজপুর ও মালদহের একাংশ পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।
৩২. দেশভাগ-পরবর্তী উত্তরবঙ্গের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কোচবিহারের বিশেষ সমস্যাটি কী ছিল?
(ক) ভাষা সমস্যা
(খ) ছিটমহল সমস্যা
(গ) জল সমস্যা
(ঘ) বন্যা সমস্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ছিটমহল সমস্যা — কোচবিহার রাজ্যের দেশভাগ-পূর্ববর্তী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অসংখ্য ছিটমহলের সৃষ্টি হয়। এই ছিটমহলগুলির প্রশাসনিক ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করে।
৩৩. দেশভাগের পর উত্তরবঙ্গের শরণার্থী সমস্যার ক্ষেত্রে কোন জেলাটি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়?
(ক) দার্জিলিং
(খ) জলপাইগুড়ি
(গ) নদীয়া
(ঘ) উত্তর দিনাজপুর
সঠিক উত্তর: (ঘ) উত্তর দিনাজপুর — দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রচুর সংখ্যক হিন্দু শরণার্থী উত্তর দিনাজপুর, নদীয়া ও মালদহে আসেন। উত্তর দিনাজপুর জেলা শরণার্থী সমস্যায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়।
ইউনিট–১০: ১৯৫৩–১৯৫৫ সালের রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন এবং উত্তরবঙ্গ
৩৪. ১৯৫৩-১৯৫৫ সালের রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের (SRC) সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) কে. এম. পানিক্কর
(খ) হৃদয়নাথ কুনজরু
(গ) ফজল আলী
(ঘ) সরদার পটেল
সঠিক উত্তর: (গ) ফজল আলী — ১৯৫৩ সালে গঠিত রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি ছিলেন বিচারপতি ফজল আলী। এই কমিশন ভারতের ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের সুপারিশ করে এবং উত্তরবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করে।
৩৫. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের দাবি কী ছিল?
(ক) পৃথক রাজ্যের দাবি
(খ) বাংলাদেশের সঙ্গে একীকরণ
(গ) বিহারের সঙ্গে যুক্তির দাবি
(ঘ) আসামের সঙ্গে একীকরণ
সঠিক উত্তর: (ক) পৃথক রাজ্যের দাবি — উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের কাছে পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্যের দাবি জানায়। তবে কমিশন এই দাবি মঞ্জুর না করে উত্তরবঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই রাখার সুপারিশ করে।
৩৬. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হয় কত সালে?
(ক) ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ — ফজল আলী কমিশন ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন প্রণীত হয় এবং ভারতে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ইউনিট–১১: কয়েকটি প্রধান সমস্যা
৩৭. বেরুবাড়ি সমস্যার ক্ষেত্রে নেহরু-নুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
(ক) ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ — ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফিরোজ খান নুনের মধ্যে ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে বেরুবাড়ি সমস্যা নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী বেরুবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণাংশ পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল।
৩৮. ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় কোন চুক্তির মাধ্যমে?
(ক) নেহরু-নুন চুক্তি
(খ) ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি
(গ) ল্যান্ড বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্ট (LBA) ২০১৫
(ঘ) শিমলা চুক্তি
সঠিক উত্তর: (গ) ল্যান্ড বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্ট (LBA) ২০১৫ — ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ল্যান্ড বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ১৬১টি ছিটমহল বিনিময়ের ব্যবস্থা হয় এবং দশকের পর দশক ধরে চলা ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান ঘটে।
৩৯. বেরুবাড়ি সমস্যার ক্ষেত্রে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়া হয় কত সালে?
(ক) ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ — ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বেরুবাড়ি ইউনিয়ন মামলায় রায় দেন। আদালত রায় দেন যে ভূখণ্ড হস্তান্তরের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। এর ফলে ১৯৬০ সালের নবম সংশোধনী আনা হয়।
ইউনিট–১২: কয়েকটি স্থানীয় আন্দোলন
৪০. নকশালবাড়ি কৃষক আন্দোলন সংঘটিত হয় কত সালে?
(ক) ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ — নকশালবাড়ি কৃষক আন্দোলন ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ মে দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি অঞ্চলে সংঘটিত হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন চারু মজুমদার ও কানু সান্যাল। পুলিশের গুলিতে কয়েকজন কৃষক নিহত হলে এই আন্দোলন ভারতব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করে।
৪১. নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রধান স্লোগান কী ছিল?
(ক) ইনকিলাব জিন্দাবাদ
(খ) জমি তোলারের কাছে (Land to the Tiller)
(গ) বন্দে মাতরম
(ঘ) জয় হিন্দ
সঠিক উত্তর: (খ) জমি তোলারের কাছে (Land to the Tiller) — নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল জোতদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জমি কেড়ে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা। "জমি তোলারের কাছে" এই আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল।
৪২. উত্তরাখণ্ড দল কবে গঠিত হয়?
(ক) ১৯৬০-এর দশক
(খ) ১৯৭০-এর দশক
(গ) ১৯৮০-এর দশক
(ঘ) ১৯৯০-এর দশক
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৭০-এর দশক — উত্তরাখণ্ড দল ১৯৭০-এর দশকে উত্তরবঙ্গের পৃথক রাজ্যের দাবিতে গঠিত হয়। পরবর্তীকালে এই সংগঠন কামতাপুর গণ পরিষদে রূপান্তরিত হয় এবং উত্তরবঙ্গের স্বায়ত্তশাসন ও পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
ইউনিট–১৩: পার্বত্য উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি
৪৩. পার্বত্য উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোন সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
(ক) গোর্খা লীগ
(খ) কামতাপুর পিপলস পার্টি
(গ) উত্তরাখণ্ড দল
(ঘ) উপরোক্ত সকলেই
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরোক্ত সকলেই — পার্বত্য উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গোর্খা লীগ, কামতাপুর পিপলস পার্টি ও উত্তরাখণ্ড দল সকলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সংগঠনগুলি পৃথক রাজ্য বা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে।
৪৪. উত্তরবঙ্গ তপশিলি জাতি ও আদিবাসী সংগঠনের প্রধান দাবি কী ছিল?
(ক) পৃথক রাজ্য
(খ) সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
(গ) ভাষা স্বীকৃতি
(ঘ) ধর্মীয় স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর: (খ) সংরক্ষণ ও উন্নয়ন — উত্তরবঙ্গ তপশিলি জাতি ও আদিবাসী সংগঠনগুলির প্রধান দাবি ছিল তপশিলি জাতি ও আদিবাসীদের শিক্ষা, চাকরি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ও সামগ্রিক উন্নয়ন।
৪৫. কামতাপুর পিপলস পার্টি (KPP) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ — কামতাপুর পিপলস পার্টি (KPP) ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে কামতাপুর গণ পরিষদের একটি অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দল কামতাপুরি ভাষার স্বীকৃতি ও পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
৪৬. গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান দাবি কী?
(ক) কোচবিহারকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা
(খ) কোচবিহারকে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্তি
(গ) কোচবিহারের স্বাধীনতা
(ঘ) কোচবিহারের বাংলাদেশের সঙ্গে একীকরণ
সঠিক উত্তর: (ক) কোচবিহারকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা — গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন কোচবিহারকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পৃথক করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানায়। তারা মনে করেন যে কোচবিহারের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য এটি একটি বিশেষ প্রশাসনিক মর্যাদা প্রাপ্য।
৪৭. উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সংগঠনগুলির মধ্যে কোনটি সর্বপ্রথম গঠিত হয়?
(ক) উত্তরবঙ্গ তপশিলি জাতি ও আদিবাসী ছাত্র সংগঠন (১৯৭৬)
(খ) আদিবাসী বিকাশ পরিষদ
(গ) জঙ্গল মহল আদিবাসী সংগঠন
(ঘ) ভারতীয় আদিবাসী পরিষদ
সঠিক উত্তর: (ক) উত্তরবঙ্গ তপশিলি জাতি ও আদিবাসী ছাত্র সংগঠন (১৯৭৬) — ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে "উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় তপশিলি জাতি ও আদিবাসী ছাত্র সংগঠন" গঠিত হয়। এই সংগঠন আদিবাসী ছাত্রদের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে।
৪৮. কামতাপুর পিপলস পার্টির দুটি অংশের মিলন কবে হয়?
(ক) ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: (খ) ২০১০ খ্রিস্টাব্দ — কামতাপুর পিপলস পার্টির নিখিল রায় ও অতুল রায়ের নেতৃত্বাধীন দুটি অংশ ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর ময়নাগুড়িতে মিলিত হয়। এই মিলন কামতাপুর আন্দোলনকে নতুন গতি প্রদান করে।
উপসংহার
উপরোক্ত বহুনির্বাচনী প্রশ্নাবলি CBPBU-র MDC-3 পত্রের সম্পূর্ণ সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় — সুলতানি ও মুঘল শাসন, খেন ও কোচ রাজবংশ, ঔপনিবেশিক প্রশাসন, অভিবাসন, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, জাতীয় ও স্থানীয় আন্দোলন, দেশভাগ-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি — সবকিছুই এই প্রশ্নাবলিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য এই প্রশ্নাবলি একটি বিশদ ও সমগ্রতাবদ্ধ প্রস্তুতির মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন