ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগসমূহ: হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ও উপদ্বীপীয় মালভূমির ভূ-প্রকৃতি | Geography Notes in Bengali


 

ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগসমূহ: হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ও উপদ্বীপীয় মালভূমি (Briefly mention the physiographic divisions of India. Provide a detailed account of the physiography of the Himalayan Mountain Region and the Peninsular Plateau.)

১. ভূমিকা (Introduction)

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র ভারত ভৌগোলিক বৈচিত্র্যে ভরপুর একটি দেশ। ভূ-গঠন, শিলার প্রকৃতি, ভূ-তাত্ত্বিক বয়স এবং ভূমিরূপের উচ্চতার তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে সমগ্র ভারতকে প্রধানত ছয়টি প্রধান ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগে (Physiography Divisions) ভাগ করা হয়। ভাগ গুলো হল:-

১. উত্তর ও উত্তর-পূর্বের পার্বত্য অঞ্চল (হিমালয় পর্বতমালা)

২. উত্তরের বিশাল সমভূমি অঞ্চল (সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা)

৩. উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল (Peninsular Plateau)

৪. ভারতীয় মহামরুভূমি (থার মরুভূমি)

৫. উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল (পশ্চিম ও পূর্ব উপকূল)

৬. দ্বীপপুঞ্জ (আন্দামান-নিকোবর এবং লাক্ষাদ্বীপ)

                                                            এই সকল ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তৃত দুটি অংশ হলো উত্তর ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল এবং দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল। নিচে এই দুই প্রধান বিভাগের ভূ-প্রাকৃতিক বিবরণ বিস্তারসহ আলোচনা করা হলো।

২. হিমালয় পর্বতমালার ভূ-প্রকৃতি (Physiography of the Himalayas)

হিমালয় পর্বতমালা হলো বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অথচ সর্বোচ্চ ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী। আনুমানিক ৫ কোটি বছর পূর্বে ইউরেশীয় ও ভারতীয় পাতের সংঘর্ষে প্রাচীন টেথিস মহিসাগরের তলদেশে সঞ্চিত পলিরাশিতে প্রবল চাপের সৃষ্টি হয় এবং ভাজ পড়ে এই বিশালাকার পর্বতের সৃষ্টি হয়। এটি ভারতের উত্তর সীমান্তে ধনুকের মতো আকারে পশ্চিমে সিন্ধু নদের বাক থেকে শুরু করে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত।

ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এবং গঠনের ওপর ভিত্তি করে হিমালয়কে প্রধানত দুটি দিক থেকে শ্রেণীবদ্ধ করে আলোচনা করা হয়:

(ক) উত্তর থেকে দক্ষিণে বা প্রস্থ অনুযায়ী বিভাজন:

দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে অগ্রসর হলে হিমালয় পর্বতমালাকে চারটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণীতে ভাগ করা যায়। প্রতিটি শ্রেণীর নিজস্ব উচ্চতা ও গাঠনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

১. শিবালিক বা বহিঃ-হিমালয় (Outer Himalayas):

শিবালিক হলো হিমালয় পর্বতমালার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত এবং সবচেয়ে নবীনতম অংশ। মূল হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলির পলি ও পলিমাটি সঞ্চয়ের ফলে এই অংশটি গঠিত হয়েছে।

  • উচ্চতা: এর গড় উচ্চতা অত্যন্ত কম, সাধারণত ৯০০ থেকে ১,১০০ মিটারের মধ্যে হয়ে থাকে।

  • উপত্যকা (দূন): শিবালিক এবং তার উত্তরে অবস্থিত হিমাচল হিমালয়ের মাঝখানে বেশ কিছু অনুদৈর্ঘ্য সমতল উপত্যকা দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয় ভাষায় এগুলোকে 'দূন' বলা হয়; যার একটি বিশিষ্ট উদাহরণ হলো দেরাদুন।

২. হিমাচল বা মধ্য হিমালয় (Lesser Himalayas):

শিবালিকের ঠিক উত্তর দিকে এবং প্রধান হিমালয়ের দক্ষিণে হিমাচল হিমালয় অবস্থান করছে। তীব্র ভূ-আন্দোলনের ফলে এখানকার শিলাস্তর অত্যন্ত জটিল ও রূপান্তরিত রূপ ধারণ করেছে।

  • উচ্চতা ও প্রধান শ্রেণী: এর গড় উচ্চতা ৩,৭০০ থেকে ৪,৫০০ মিটার। পীরপাঞ্জাল, ধৌলাধার, মহাভারত ইত্যাদি এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণী।

  • পর্যটন কেন্দ্র: মনোরম আবহাওয়ার কারণে ভারতের বিখ্যাত শৈলশহরসমূহ যেমন— সিমলা, কুল্লু, মানালি, মসুরি ও দার্জিলিং এই অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে।

৩. হিমাদ্রি বা প্রধান হিমালয় (Great Himalayas):

হিমাচল হিমালয়ের উত্তরে অবস্থিত এই অংশটি হিমালয়ের সবচেয়ে প্রাচীন, সর্বোচ্চ ও কেন্দ্রীয় অংশ। এটি সারা বছরই প্রায় বরফে ঢাকা থাকে বলে একে 'হিমাদ্রি' বলা হয়।

  • উচ্চতা: এখানকার গড় উচ্চতা ৬,০০০ মিটারেরও বেশি।

  • প্রধান শৃঙ্গসমূহ: পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মি; নেপাল সীমান্তে) এবং ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৮৬ মি) এই হিমাদ্রি অংশেই অবস্থিত।

৪. টেথিস বা ট্রান্স হিমালয় (Trans-Himalayas):

হিমাদ্রির আরও উত্তরে তিব্বত মালভূমি সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে ট্রান্স হিমালয় অবস্থিত। এটি প্রধান হিমালয় সৃষ্টির বহু আগেই গঠিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

  • বিস্তার ও পর্বতশ্রেণী: কারাকোরাম, লাদাখ এবং জাস্কর পর্বতশ্রেণী এই অংশের অন্তর্গত।

  • ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীর অন্তর্গত K2 বা গডউইন অস্টিন (৮,৬১১ মি) হলো ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।

(খ) পশ্চিম থেকে পূর্বে বা দৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিভাজন:

দৈর্ঘ্য বা আঞ্চলিক অবস্থান অনুসারে হিমালয়কে মূলত তিনটি প্রধানভাগে ভাগ করা হয়। নদী উপত্যকাগুলোর অবস্থান দ্বারা এগুলো চিহ্নিত।

  • পশ্চিম হিমালয়: সিন্ধু নদ থেকে শুরু করে পূর্বে কালী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলটি পশ্চিম হিমালয় নামে পরিচিত। এটি কাশ্মীর, হিমাচল ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

  • মধ্য হিমালয়: এটি কালী নদী থেকে তিস্তা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশটির সিংহভাগই নেপালের অন্তর্ভুক্ত।

  • পূর্ব হিমালয়: তিস্তা নদী থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্রের বাঁক (নামচাবারওয়া) পর্যন্ত অঞ্চলটি পূর্ব হিমালয়। সিকিম, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং এবং অরুণাচল প্রদেশের পাশাপাশি মিজো ও নাগা পাহাড়ের মতো পূর্বাচল সীমান্ত পর্বতসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত।

৩. উপদ্বীপীয় মালভূমির ভূ-প্রকৃতি (Physiography of the Peninsular Plateau)

উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলটি হলো সমগ্র ভারতের প্রাচীনতম, বৃহত্তম এবং সবচেয়ে স্থিতিশীল ভূ-প্রাকৃতিক একক। আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে প্রাচীন গন্ডোয়ানা ভূখণ্ডের (Gondwanaland) অংশ হিসেবে এটি গঠিত হয়েছিল। এটি দেখতে অনেকটা উল্টানো ত্রিভুজের মতো এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৬০০ থেকে ৯০০ মিটার। কঠিন গ্রানাইট ও নাইস শিলা দ্বারা গঠিত এই মালভূমি অঞ্চলটি বেশ কয়েকটি ছোট-বড় মালভূমি ও পর্বতশ্রেণীতে বিভক্ত।



ভূ-প্রাকৃতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এই উপদ্বীপীয় অঞ্চলকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

(ক) মধ্যভাগের উচ্চভূমি (Central Highlands):

নর্মদা নদীর উত্তর দিক থেকে শুরু করে উত্তরের সমভূমির দক্ষিণ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে মধ্যভাগের উচ্চভূমি বলা হয়। এটি মূলত উত্তর-পূর্ব দিকে ঢালু।

  • অন্তর্বর্তী মালভূমি: মালব মালভূমি, বুন্দেলখণ্ড, বাঘেলখণ্ড এবং পূর্ব দিকে খনিজসমৃদ্ধ ছোটনাগপুর মালভূমি এর অংশ। ছোটনাগপুরে বিপুল খনিজ সম্পদের উপস্থিতির জন্য একে "ভারতের রূঢ়" বলা হয়।

  • প্রাচীন পর্বত: ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন ক্ষয়জাত পর্বত আরাবল্লী এই উচ্চভূমির উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থান করছে।

(খ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি (Deccan Plateau):

নর্মদা নদীর দক্ষিণে অবস্থিত বিশাল ত্রিভুজাকার ভূখণ্ডটি হলো দাক্ষিণাত্য মালভূমি। এটি প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা জমে গঠিত হয়েছে।

  • ডেকান ট্র্যাপ: লাভা সঞ্চিত হয়ে সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত ভূমিরূপ তৈরি করেছে, যাকে 'ডেকান ট্র্যাপ' বলা হয়।

  • মৃত্তিকা: এখানকার ব্যাসাল্ট শিলা আবহবিকারের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অত্যন্ত উর্বর কৃষ্ণমৃত্তিকা বা রেগুর মাটি তৈরি করেছে, যা তুলা চাষের জন্য সেরা।

(গ) উত্তর-পূর্বের মালভূমি (Meghalaya Plateau):

এটি ভৌগোলিকভাবে মূল উপদ্বীপীয় মালভূমিরই একটি সম্প্রসারিত অংশ, যা মাঝখানের 'মালদা গ্যাপিং' বা 'গারো-রাজমহল গ্যাপ' দ্বারা মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

  • প্রধান পাহাড়: মেঘালয় রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত এই মালভূমি মূলত গারো, খাসি এবং জয়ন্তিয়া পাহাড় নিয়ে গঠিত।

উপদ্বীপীয় মালভূমির সীমানা ও ঘাট পর্বতমালা:

মালভূমিটির পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে দুটি দীর্ঘ পর্বতশ্রেণী প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলোকে যথাক্রমে পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালা বলা হয়।

  • পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (সহ্যাদ্রি): আরব সাগরের উপকূলের সমান্তরালে একটানা সোজা বিস্তৃত অবিচ্ছিন্ন একটি পর্বতশ্রেণী। এর গড় উচ্চতা বেশ বেশি। এই পর্বতের অন্তর্গত আনাইমুদি (২,৬৯৫ মি) শৃঙ্গটি সমগ্র দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

  • পূর্বঘাট পর্বতমালা: বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছে। মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরীর মতো নদীগুলোর ক্ষয়কাজের ফলে এটি মাঝে মাঝেই খণ্ডিত হয়েছে। এর অন্যতম প্রধান শৃঙ্গ হলো জিন্দাগাদা (১,৬৯০ মি)।

  • নীলগিরি পর্বত: ভারতের দক্ষিণ ভাগে এসে এই পশ্চিমঘাট এবং পূর্বঘাট পর্বতমালা একটি বিন্দুতে মিলিত হয়েছে, যা নীলগিরি পাহাড় নামে পরিচিত।

৪. হিমালয় ও উপদ্বীপীয় মালভূমির প্রধান বৈসাদৃশ্য

পার্থক্যের বিষয়

হিমালয় পর্বতমালা

উপদ্বীপীয় মালভূমি

 

উৎপত্তি ও বয়স

নবীন ভঙ্গিল পর্বত, যা তুলনামূলকভাবে নতুন ভূ-তাত্ত্বিক যুগে গঠিত।

অতি প্রাচীন স্থিতিশীল ভূখণ্ড (গন্ডোয়ানা ল্যান্ডের অংশ)।

শিলার ধরন

প্রধানত পলল শিলা এবং কিছু রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত।

প্রাচীন কঠিন আগ্নেয় শিলা (গ্রানাইট, ব্যাসাল্ট) ও নাইস দ্বারা গঠিত।

ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য

অত্যন্ত খাড়া ঢাল, তীক্ষ্ণ চূড়া ও তুষারাবৃত উঁচু পর্বতশৃঙ্গযুক্ত।

চ্যাপ্টা মাথাযুক্ত, কিছুটা ঢেউখেলানো বিস্তৃত টেবিলল্যান্ড।

নদ-নদীর প্রকৃতি

এখানকার নদীগুলো বরফগলা জলে পুষ্ট এবং সারাবছর জল থাকে (চিরপ্রবাহিনী)।

নদীগুলো মূলত বৃষ্টির জলে পুষ্ট এবং শুষ্ক ঋতুতে শুকিয়ে যায় (অচিরপ্রবাহিনী)।

৫. উপসংহার (Conclusion)

পরিশেষে বলা যায়, হিমালয় পর্বতমালা এবং উপদ্বীপীয় মালভূমি ভূ-তাত্ত্বিক বয়স এবং দৃশ্যমান রূপের দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত হলেও, ভারতের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সামঞ্জস্য রক্ষায় উভয়ই পরিপূরক ভূমিকা পালন করে। হিমালয় পর্বতমালা একদিকে যেমন উত্তর দিক থেকে আসা হাড়কাঁপানো শীতের বাতাসকে বাধা দিয়ে ভারতের জলবায়ুকে বাসযোগ্য রাখে, তেমনি মৌসুমী বায়ুকে আটকে সারা দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। অন্যদিকে, প্রাচীন উপদ্বীপীয় মালভূমি হলো ভারতের শিল্পায়নের মূল চালিকাশক্তি; কারণ দেশের অধিকাংশ মূল্যবান খনিজ উপাদান (যেমন: কয়লা, আকরিক লোহা, ম্যাঙ্গানিজ) এই অঞ্চলেই গচ্ছিত রয়েছে। ভারতের সমগ্র ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য মূলত এই দুটি ভিন্নধর্মী ভূমিরূপের ভিত্তিপ্রস্তরের ওপর ভর করেই দাঁড়িয়ে আছে।


PDF Download

ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগসমূহ_ হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ও উপদ্বীপীয় মালভূমি https://amirpdftolink.base44.app/view/g1yyjdb9mseaoslg


কোন মন্তব্য নেই: