বাংলা গানের ইতিহাস MCQ মক টেস্ট
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা | তৃতীয় সেমেস্টার | শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস
ভূমিকা: বাংলা গানের ইতিহাস একটি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় অধ্যায় যা প্রাচীন চর্যাপদ থেকে শুরু করে আধুনিক ব্যান্ড সংগীত পর্যন্ত বিস্তৃত। উচ্চ মাধ্যমিক তৃতীয় সেমেস্টারের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলা গানের বিভিন্ন ধারা, শিল্পী, সুরকার এবং গীতিকারদের সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মক টেস্টে মোট ৭৫টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন সংকলিত করা হয়েছে যা SLST, SSC, MSC এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রতিটি প্রশ্নের নিচে "উত্তর দেখুন" বোতাম রয়েছে যার মাধ্যমে সঠিক উত্তর এবং প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা জানা যাবে।
প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা গান (প্রশ্ন ১-১০)
১. বাংলা গানের আদি নিদর্শন কোনটি?
সঠিক উত্তর: ক) চর্যাপদ
চর্যাপদ বাংলা গানের আদি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। এটি আনুমানিক ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের গানের সংকলন। চর্যাগানে সঙ্গীতের ছয়টি অঙ্গ (শ্রুতি, স্বর, গ্রাম, মূর্ছনা, তাল ও লয়) এর প্রয়োগ দেখা যায়।
চর্যাপদ বাংলা গানের আদি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। এটি আনুমানিক ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের গানের সংকলন। চর্যাগানে সঙ্গীতের ছয়টি অঙ্গ (শ্রুতি, স্বর, গ্রাম, মূর্ছনা, তাল ও লয়) এর প্রয়োগ দেখা যায়।
২. চর্যাপদ মূলত কী?
সঠিক উত্তর: ক) গানের সংকলন
চর্যাপদ মূলত একটি গানের সংকলন। এখানে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা তান্ত্রিক সাধনার বিভিন্ন দিক তাদের গানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি চর্যা একটি নির্দিষ্ট রাগ ও তালে গাওয়ার জন্য রচিত।
চর্যাপদ মূলত একটি গানের সংকলন। এখানে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা তান্ত্রিক সাধনার বিভিন্ন দিক তাদের গানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি চর্যা একটি নির্দিষ্ট রাগ ও তালে গাওয়ার জন্য রচিত।
৩. ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ গ্রন্থে চর্যাগানের মোট সংখ্যা কত?
সঠিক উত্তর: ঘ) ৫১ টি
‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ গ্রন্থে মোট ৫১টি চর্যাগান সংকলিত রয়েছে। এই গ্রন্থটি মুনিদত্ত শ্রীভদ্র দ্বারা সম্পাদিত। চর্যাগুলো বাংলা, অসমীয়া ও ওড়িয়া মিশ্রিত প্রাচীন ভাষায় রচিত।
‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ গ্রন্থে মোট ৫১টি চর্যাগান সংকলিত রয়েছে। এই গ্রন্থটি মুনিদত্ত শ্রীভদ্র দ্বারা সম্পাদিত। চর্যাগুলো বাংলা, অসমীয়া ও ওড়িয়া মিশ্রিত প্রাচীন ভাষায় রচিত।
৪. চর্যার যুগে সঙ্গীতে কয়টি অঙ্গ দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: ক) ৬ টি
চর্যার যুগে সঙ্গীতে ছয়টি অঙ্গ দেখা যায়। এগুলো হলো: শ্রুতি, স্বর, গ্রাম, মূর্ছনা, তাল ও লয়। এই ছয় অঙ্গ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
চর্যার যুগে সঙ্গীতে ছয়টি অঙ্গ দেখা যায়। এগুলো হলো: শ্রুতি, স্বর, গ্রাম, মূর্ছনা, তাল ও লয়। এই ছয় অঙ্গ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
৫. চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচিত হয়েছে যে রাগে?
সঠিক উত্তর: ক) পটমঞ্জরী
চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচিত হয়েছে পটমঞ্জরী রাগে। চর্যাপদে মোট ১২টি রাগ ও রাগিনীর উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে পটমঞ্জরী, গুর্জরী, দেবক্রী, দেশাখ, মল্লার, মেঘ, বৈরাটী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচিত হয়েছে পটমঞ্জরী রাগে। চর্যাপদে মোট ১২টি রাগ ও রাগিনীর উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে পটমঞ্জরী, গুর্জরী, দেবক্রী, দেশাখ, মল্লার, মেঘ, বৈরাটী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
৬. আদি মধ্যযুগের বাংলা ভাষার একমাত্র প্রামাণ্য সাহিত্যিক নিদর্শন কোনটি?
সঠিক উত্তর: খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আদি মধ্যযুগের বাংলা ভাষার একমাত্র প্রামাণ্য সাহিত্যিক নিদর্শন। বড়ু চণ্ডীদাস রচিত এই কাব্যে মোট ৪১৮টি পদ রয়েছে এবং এতে ৩২টি রাগ-রাগিনীর ব্যবহার দেখা যায়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আদি মধ্যযুগের বাংলা ভাষার একমাত্র প্রামাণ্য সাহিত্যিক নিদর্শন। বড়ু চণ্ডীদাস রচিত এই কাব্যে মোট ৪১৮টি পদ রয়েছে এবং এতে ৩২টি রাগ-রাগিনীর ব্যবহার দেখা যায়।
৭. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের মোট পদ সংখ্যা কত?
সঠিক উত্তর: খ) ৪১৮ টি
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যে মোট ৪১৮টি পদ রয়েছে। বড়ু চণ্ডীদাস রচিত এই কাব্যে রাধা-কৃষ্ণের বিরহ ও মিলনের কাহিনী অত্যন্ত মার্মিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যে মোট ৪১৮টি পদ রয়েছে। বড়ু চণ্ডীদাস রচিত এই কাব্যে রাধা-কৃষ্ণের বিরহ ও মিলনের কাহিনী অত্যন্ত মার্মিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৮. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে’ মোট কতগুলি রাগ রাগিণীর ব্যবহার দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: খ) ৩২ টি
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে’ মোট ৩২টি রাগ-রাগিনীর ব্যবহার দেখা যায়। এর মধ্যে ভৈরবী, মল্লার, শ্রী, বসন্ত, কামোদ, পটমঞ্জরী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এটি বাংলা সংগীতে রাগ-রাগিনীর প্রাচীনতম প্রয়োগের প্রমাণ।
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে’ মোট ৩২টি রাগ-রাগিনীর ব্যবহার দেখা যায়। এর মধ্যে ভৈরবী, মল্লার, শ্রী, বসন্ত, কামোদ, পটমঞ্জরী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এটি বাংলা সংগীতে রাগ-রাগিনীর প্রাচীনতম প্রয়োগের প্রমাণ।
৯. মঙ্গলকাব্যগুলি গাওয়া হতো কোন লৌকিক ছন্দে?
সঠিক উত্তর: গ) লাচাড়ি ছন্দে
মঙ্গলকাব্যগুলি লাচাড়ি ছন্দে গাওয়া হতো। লাচাড়ি ছন্দ একটি লৌকিক ছন্দ যা মঙ্গলকাব্য পাঠের সময় ব্যবহৃত হতো। মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, রায়মঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গলকাব্য এই ছন্দে গীত হতো।
মঙ্গলকাব্যগুলি লাচাড়ি ছন্দে গাওয়া হতো। লাচাড়ি ছন্দ একটি লৌকিক ছন্দ যা মঙ্গলকাব্য পাঠের সময় ব্যবহৃত হতো। মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, রায়মঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গলকাব্য এই ছন্দে গীত হতো।
১০. মনসাগীতি রাঢ় বঙ্গে কী নামে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: ক) ঝাপান
মনসাগীতি রাঢ় বঙ্গে "ঝাপান" নামে পরিচিত। দক্ষিণবঙ্গে ভাসান, পূর্ববঙ্গে রয়ানী এবং উত্তরবঙ্গে সাইটোল বিষহরীর গান নামে পরিচিত। মনসাগীতি মূলত মনসা দেবীর পূজা উপলক্ষে গাওয়া লৌকিক গান।
মনসাগীতি রাঢ় বঙ্গে "ঝাপান" নামে পরিচিত। দক্ষিণবঙ্গে ভাসান, পূর্ববঙ্গে রয়ানী এবং উত্তরবঙ্গে সাইটোল বিষহরীর গান নামে পরিচিত। মনসাগীতি মূলত মনসা দেবীর পূজা উপলক্ষে গাওয়া লৌকিক গান।
লৌকিক ও ধ্রুপদী গানের ধারা (প্রশ্ন ১১-২০)
১১. টপ্পা গান বাংলায় জনপ্রিয় কে করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: ক) রামনিধি গুপ্ত
রামনিধি গুপ্ত (নিধিবাবু) টপ্পা গান বাংলায় জনপ্রিয় করেছিলেন। তিনি ১৭৪১-১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন এবং "নিধিবাবু" নামে সমধিক পরিচিত। তিনি বাংলা টপ্পার জনক হিসেবে স্বীকৃত।
রামনিধি গুপ্ত (নিধিবাবু) টপ্পা গান বাংলায় জনপ্রিয় করেছিলেন। তিনি ১৭৪১-১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন এবং "নিধিবাবু" নামে সমধিক পরিচিত। তিনি বাংলা টপ্পার জনক হিসেবে স্বীকৃত।
১২. জারি গানে ‘জারি’ শব্দের অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: খ) ক্রন্দন
জারি গানে ‘জারি’ শব্দের অর্থ ক্রন্দন বা কান্না। জারি গান মূলত মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় গান যা মহরম উপলক্ষে হুসেনের শোকে গাওয়া হয়। এতে বিলাপ ও করুণ রসের প্রাধান্য দেখা যায়।
জারি গানে ‘জারি’ শব্দের অর্থ ক্রন্দন বা কান্না। জারি গান মূলত মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় গান যা মহরম উপলক্ষে হুসেনের শোকে গাওয়া হয়। এতে বিলাপ ও করুণ রসের প্রাধান্য দেখা যায়।
১৩. কিশোর কুমারের প্রকৃত নাম কী?
সঠিক উত্তর: খ) আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়
কিশোর কুমারের প্রকৃত নাম আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ১৯২৯-১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। তিনি একাধারে গায়ক, সুরকার, অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক ছিলেন।
কিশোর কুমারের প্রকৃত নাম আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ১৯২৯-১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। তিনি একাধারে গায়ক, সুরকার, অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক ছিলেন।
১৪. "মিলে সব ভারত সন্তান"- গানটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
"মিলে সব ভারত সন্তান" গানটির রচয়িতা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন এবং ভারতীয় সঙ্গীত সমাজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নন, প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
"মিলে সব ভারত সন্তান" গানটির রচয়িতা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন এবং ভারতীয় সঙ্গীত সমাজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নন, প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৫. একজন উল্লেখযোগ্য কবিয়াল হলেন?
সঠিক উত্তর: গ) হরু ঠাকুর
হরু ঠাকুর একজন উল্লেখযোগ্য কবিয়াল ছিলেন। কবিয়ালি হলো এক ধরনের লৌকিক গানের প্রতিযোগিতা যেখানে দুই দল কবিয়াল পরস্পরের বিরুদ্ধে গান পরিবেশন করেন। ভোলানাথ ময়রা, রামবাসু, হরু ঠাকুর প্রমুখ বিখ্যাত কবিয়াল।
হরু ঠাকুর একজন উল্লেখযোগ্য কবিয়াল ছিলেন। কবিয়ালি হলো এক ধরনের লৌকিক গানের প্রতিযোগিতা যেখানে দুই দল কবিয়াল পরস্পরের বিরুদ্ধে গান পরিবেশন করেন। ভোলানাথ ময়রা, রামবাসু, হরু ঠাকুর প্রমুখ বিখ্যাত কবিয়াল।
১৬. ঢপ কীর্তন-এর প্রবর্তক কে?
সঠিক উত্তর: গ) রূপচাঁদ অধিকারী
রূপচাঁদ অধিকারী ঢপ কীর্তনের প্রবর্তক। ঢপ কীর্তনে পাঁচালী ও কথকতারীতির সঙ্গে কীর্তন মিশিয়ে একটি নতুন ধারা তৈরি করা হয়েছিল। এতে নৃত্য ও অভিনয়েরও প্রাধান্য ছিল।
রূপচাঁদ অধিকারী ঢপ কীর্তনের প্রবর্তক। ঢপ কীর্তনে পাঁচালী ও কথকতারীতির সঙ্গে কীর্তন মিশিয়ে একটি নতুন ধারা তৈরি করা হয়েছিল। এতে নৃত্য ও অভিনয়েরও প্রাধান্য ছিল।
১৭. বাংলাদেশে প্রথম কে খেয়াল এর চর্চা শুরু করেন?
সঠিক উত্তর: ক) রঘুনাথ রায়
রঘুনাথ রায় বাংলাদেশে প্রথম খেয়ালের চর্চা শুরু করেন। তিনি ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় খেয়াল ধারার প্রবর্তন করেন এবং এরপর যদুভট্ট, ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এই ধারাকে সমৃদ্ধ করেন।
রঘুনাথ রায় বাংলাদেশে প্রথম খেয়ালের চর্চা শুরু করেন। তিনি ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় খেয়াল ধারার প্রবর্তন করেন এবং এরপর যদুভট্ট, ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এই ধারাকে সমৃদ্ধ করেন।
১৮. বাংলাদেশে প্রচলিত কীর্তন এর জনক কে?
সঠিক উত্তর: ক) শ্রীগৌরাঙ্গ
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (শ্রীগৌরাঙ্গ) বাংলাদেশে প্রচলিত কীর্তনের জনক হিসেবে স্বীকৃত। ১৫শ শতাব্দীতে তিনি নদীয়ায় কীর্তন প্রচলন করেন এবং তারপর এই ধারা বাংলার সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত হয়।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (শ্রীগৌরাঙ্গ) বাংলাদেশে প্রচলিত কীর্তনের জনক হিসেবে স্বীকৃত। ১৫শ শতাব্দীতে তিনি নদীয়ায় কীর্তন প্রচলন করেন এবং তারপর এই ধারা বাংলার সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত হয়।
১৯. ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ গানটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
"ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা" গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩)। তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, সুরকার ও গীতিকার ছিলেন। এই গানটি বাংলাদেশের রণাঙ্গনে প্রেরণা জুগিয়েছে।
"ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা" গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩)। তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, সুরকার ও গীতিকার ছিলেন। এই গানটি বাংলাদেশের রণাঙ্গনে প্রেরণা জুগিয়েছে।
২০. ‘চারণ কবি’ নামে কে প্রসিদ্ধ?
সঠিক উত্তর: গ) মুকুন্দ দাস
মুকুন্দ দাস ‘চারণ কবি’ নামে প্রসিদ্ধ। তার পিতৃদত্ত নাম যজ্ঞেশ্বর দে। তিনি ১৮৭৮-১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন এবং তার গানে স্বদেশপ্রেম ও সমাজ সংস্কারের বার্তা প্রবলভাবে ফুটে ওঠে।
মুকুন্দ দাস ‘চারণ কবি’ নামে প্রসিদ্ধ। তার পিতৃদত্ত নাম যজ্ঞেশ্বর দে। তিনি ১৮৭৮-১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন এবং তার গানে স্বদেশপ্রেম ও সমাজ সংস্কারের বার্তা প্রবলভাবে ফুটে ওঠে।
বিখ্যাত শিল্পী ও সুরকার (প্রশ্ন ২১-৩০)
২১. মুকুন্দ দাসের পিতৃদত্ত নাম কী?
সঠিক উত্তর: ক) যজ্ঞেশ্বর দে
মুকুন্দ দাসের পিতৃদত্ত নাম যজ্ঞেশ্বর দে। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তার উদ্বুদ্ধকরী গান তৎকালীন যুবসমাজকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করেছিল।
মুকুন্দ দাসের পিতৃদত্ত নাম যজ্ঞেশ্বর দে। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তার উদ্বুদ্ধকরী গান তৎকালীন যুবসমাজকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করেছিল।
২২. মান্না দে-র প্রকৃত নাম কী?
সঠিক উত্তর: ঘ) প্রবোধ চন্দ্র দে
মান্না দে-র প্রকৃত নাম প্রবোধ চন্দ্র দে। তিনি ১৯১৯-২০১৩ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। তিনি হিন্দি ও বাংলা দুই ভাষাতেই সমান পারদর্শী ছিলেন এবং ভারতের এক অনন্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে স্বীকৃত।
মান্না দে-র প্রকৃত নাম প্রবোধ চন্দ্র দে। তিনি ১৯১৯-২০১৩ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। তিনি হিন্দি ও বাংলা দুই ভাষাতেই সমান পারদর্শী ছিলেন এবং ভারতের এক অনন্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে স্বীকৃত।
২৩. "এমন একটা ঝিনুক খুঁজে পেলাম না"- গানটি কে গেয়েছেন?
সঠিক উত্তর: ক) নির্মলা মিশ্র
নির্মলা মিশ্র "এমন একটা ঝিনুক খুঁজে পেলাম না" গানটি গেয়েছেন। তিনি বাংলা চলচ্চিত্র সংগীতের একজন কিংবদন্তি নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী ছিলেন এবং তার সুমধুর কণ্ঠ বাংলা গানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা আছে।
নির্মলা মিশ্র "এমন একটা ঝিনুক খুঁজে পেলাম না" গানটি গেয়েছেন। তিনি বাংলা চলচ্চিত্র সংগীতের একজন কিংবদন্তি নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী ছিলেন এবং তার সুমধুর কণ্ঠ বাংলা গানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা আছে।
২৪. সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ ছবিটির সংগীত পরিচালনা কে করেন?
সঠিক উত্তর: ক) রবি শংকর
রবি শংকর সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫) ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেন। রবি শংকর একজন বিশ্ববিখ্যাত সেতারবাদক এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
রবি শংকর সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫) ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেন। রবি শংকর একজন বিশ্ববিখ্যাত সেতারবাদক এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
২৫. ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ প্রাদেশিক ব্যান্ডটির আত্মপ্রকাশ ঘটে কবে?
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে
‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ ব্যান্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে। দলনেতা গৌতম চট্টোপাধ্যায়। এটি বাংলা তথা ভারতের প্রথম প্রাদেশিক ভাষার ব্যান্ড হিসেবে স্বীকৃত।
‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ ব্যান্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে। দলনেতা গৌতম চট্টোপাধ্যায়। এটি বাংলা তথা ভারতের প্রথম প্রাদেশিক ভাষার ব্যান্ড হিসেবে স্বীকৃত।
২৬. বাংলা তথা ভারতের প্রথম প্রাদেশিক ভাষার ব্যান্ড কোনটি?
সঠিক উত্তর: গ) মহীনের ঘোড়াগুলি
মহীনের ঘোড়াগুলি বাংলা তথা ভারতের প্রথম প্রাদেশিক ভাষার ব্যান্ড। দলনেতা গৌতম চট্টোপাধ্যায়। এরপর ভূমি, ক্যাকটাস, চন্দ্রবিন্দু, ফসিলস প্রভৃতি ব্যান্ড বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে সমৃদ্ধ করে।
মহীনের ঘোড়াগুলি বাংলা তথা ভারতের প্রথম প্রাদেশিক ভাষার ব্যান্ড। দলনেতা গৌতম চট্টোপাধ্যায়। এরপর ভূমি, ক্যাকটাস, চন্দ্রবিন্দু, ফসিলস প্রভৃতি ব্যান্ড বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে সমৃদ্ধ করে।
২৭. কোন ছবিতে নেপথ্য শিল্পী হিসেবে মান্না দের আত্মপ্রকাশ ঘটে?
সঠিক উত্তর: ক) তমান্না
নেপথ্য শিল্পী হিসেবে মান্না দের আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘তমান্না’ (১৯৪২) ছবিতে। এরপর তিনি হিন্দি ও বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে নিজের স্থান অর্জন করেন।
নেপথ্য শিল্পী হিসেবে মান্না দের আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘তমান্না’ (১৯৪২) ছবিতে। এরপর তিনি হিন্দি ও বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে নিজের স্থান অর্জন করেন।
২৮. শাক্ত সঙ্গীতের প্রথম ও প্রধান কবি কে?
সঠিক উত্তর: খ) রামপ্রসাদ সেন
রামপ্রসাদ সেন শাক্ত সঙ্গীতের প্রথম ও প্রধান কবি। তার উপাধি ‘কবিরঞ্জন’। তিনি আঠারো শতাব্দীতে কালীভক্তি গানের মাধ্যমে বাংলা শাক্ত সাহিত্যকে এক নতুন মাত্রা দেন।
রামপ্রসাদ সেন শাক্ত সঙ্গীতের প্রথম ও প্রধান কবি। তার উপাধি ‘কবিরঞ্জন’। তিনি আঠারো শতাব্দীতে কালীভক্তি গানের মাধ্যমে বাংলা শাক্ত সাহিত্যকে এক নতুন মাত্রা দেন।
২৯. ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’ গানটি কার লেখা?
সঠিক উত্তর: গ) আব্দুল গফ্ফর চৌধুরী
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’ গানটি আব্দুল গফ্ফর চৌধুরীর লেখা এবং আলতাফ মাহমুদের সুরারোপিত। এই গানটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছে এবং একুশে ফেব্রুয়ারির স্মরণে গাওয়া হয়।
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’ গানটি আব্দুল গফ্ফর চৌধুরীর লেখা এবং আলতাফ মাহমুদের সুরারোপিত। এই গানটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছে এবং একুশে ফেব্রুয়ারির স্মরণে গাওয়া হয়।
৩০. মাঝিমল্লার গানকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: খ) ভাটিয়ালি
মাঝিমল্লার গানকে ভাটিয়ালি বলা হয়। ভাটিয়ালি গানের উৎপত্তি হয়েছিল অবিভক্ত বাংলায় এবং এটি নৌশিল্পীদের (মাঝি-মল্লাদের) গান হিসেবে পরিচিত। এই গানে প্রকৃতির বিবরণ ও জীবনের দুঃখ-সুখের কথা ফুটে ওঠে।
মাঝিমল্লার গানকে ভাটিয়ালি বলা হয়। ভাটিয়ালি গানের উৎপত্তি হয়েছিল অবিভক্ত বাংলায় এবং এটি নৌশিল্পীদের (মাঝি-মল্লাদের) গান হিসেবে পরিচিত। এই গানে প্রকৃতির বিবরণ ও জীবনের দুঃখ-সুখের কথা ফুটে ওঠে।
বিভিন্ন ধারার বাংলা গান (প্রশ্ন ৩১-৫০)
৩১. ভাওয়াইয়া গানের বাদকদের কী নামে ডাকা হয়?
সঠিক উত্তর: গ) বাউদিয়া
ভাওয়াইয়া গানের বাদকদের "বাউদিয়া" নামে ডাকা হয়। ভাওয়াইয়া গানের ভাষা রাজবংশী। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার অঞ্চলে এই গানের প্রচলন বেশি।
ভাওয়াইয়া গানের বাদকদের "বাউদিয়া" নামে ডাকা হয়। ভাওয়াইয়া গানের ভাষা রাজবংশী। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার অঞ্চলে এই গানের প্রচলন বেশি।
৩২. ভাটিয়ালি গানের উদ্ভব হয়েছিল কোথায়?
সঠিক উত্তর: গ) অবিভক্ত বাংলায়
ভাটিয়ালি গানের উদ্ভব হয়েছিল অবিভক্ত বাংলায়। নদী ও জলাশয় সংক্রান্ত জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে এই গানের উৎপত্তি। ভাটিয়ালি গানে প্রকৃতির বিবরণ, নৌজীবনের কষ্ট ও প্রেমের বিরহের কথা প্রকাশ পায়।
ভাটিয়ালি গানের উদ্ভব হয়েছিল অবিভক্ত বাংলায়। নদী ও জলাশয় সংক্রান্ত জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে এই গানের উৎপত্তি। ভাটিয়ালি গানে প্রকৃতির বিবরণ, নৌজীবনের কষ্ট ও প্রেমের বিরহের কথা প্রকাশ পায়।
৩৩. বাংলা ভাষায় গজল রচনার পথিকৃৎ হলেন?
সঠিক উত্তর: খ) অতুল প্রসাদ সেন
অতুল প্রসাদ সেন বাংলা ভাষায় গজল রচনার পথিকৃৎ। তিনি ১৮৭১-১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। তার গজলগুলোতে ভক্তিমূলক ও প্রেমময় ভাবের প্রাধান্য দেখা যায়। তিনি ‘কান্তকবি’ নামেও পরিচিত।
অতুল প্রসাদ সেন বাংলা ভাষায় গজল রচনার পথিকৃৎ। তিনি ১৮৭১-১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। তার গজলগুলোতে ভক্তিমূলক ও প্রেমময় ভাবের প্রাধান্য দেখা যায়। তিনি ‘কান্তকবি’ নামেও পরিচিত।
৩৪. গণসংগীতের শ্রেষ্ঠ শিল্পী সলিল চৌধুরী মূলত কী ছিলেন?
সঠিক উত্তর: খ) সুরকার
সলিল চৌধুরী মূলত একজন সুরকার ছিলেন এবং তিনি কয়্যার সঙ্গীতের প্রবর্তক। তিনি ভারতীয় গণসংগীত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা।
সলিল চৌধুরী মূলত একজন সুরকার ছিলেন এবং তিনি কয়্যার সঙ্গীতের প্রবর্তক। তিনি ভারতীয় গণসংগীত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা।
৩৫. ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যারের জয়যাত্রা শুরু হয় কার নেতৃত্বে?
সঠিক উত্তর: খ) রুমা গুহঠাকুরতা
ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যারের জয়যাত্রা শুরু হয় রুমা গুহঠাকুরতার নেতৃত্বে। রুমা গুহঠাকুরতা (রুমা দেবী) একজন বিখ্যাত বাংলা গায়িকা এবং কয়্যার সঙ্গীতের পথিকৃৎদের একজন।
ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যারের জয়যাত্রা শুরু হয় রুমা গুহঠাকুরতার নেতৃত্বে। রুমা গুহঠাকুরতা (রুমা দেবী) একজন বিখ্যাত বাংলা গায়িকা এবং কয়্যার সঙ্গীতের পথিকৃৎদের একজন।
৩৬. ব্রতচারী গানের জনক কে?
সঠিক উত্তর: খ) গুরুসদয় দত্ত
গুরুসদয় দত্ত ব্রতচারী গানের জনক হিসেবে স্বীকৃত। তিনি ১৮৮২-১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। ব্রতচারী গানে শারীরিক শৃঙ্খলা, দলবদ্ধ নৃত্য ও জাতীয়তাবাদী ভাবের প্রাধান্য রয়েছে।
গুরুসদয় দত্ত ব্রতচারী গানের জনক হিসেবে স্বীকৃত। তিনি ১৮৮২-১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। ব্রতচারী গানে শারীরিক শৃঙ্খলা, দলবদ্ধ নৃত্য ও জাতীয়তাবাদী ভাবের প্রাধান্য রয়েছে।
৩৭. ‘বলো বলো বলো সবে’ – গানটি কে লিখেছেন?
সঠিক উত্তর: গ) অতুলপ্রসাদ সেন
‘বলো বলো বলো সবে’ গানটি অতুলপ্রসাদ সেনের লেখা। এই গানটি স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেয় এবং বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
‘বলো বলো বলো সবে’ গানটি অতুলপ্রসাদ সেনের লেখা। এই গানটি স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেয় এবং বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
৩৮. ‘তুমি নির্মল কর’ গানটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: খ) রজনীকান্ত সেন
‘তুমি নির্মল কর’ গানটির রচয়িতা রজনীকান্ত সেন। তিনি ‘কান্তকবি’ নামে পরিচিত এবং তার হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক গান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে স্বতন্ত্র স্থান অধিকার করে আছে।
‘তুমি নির্মল কর’ গানটির রচয়িতা রজনীকান্ত সেন। তিনি ‘কান্তকবি’ নামে পরিচিত এবং তার হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক গান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে স্বতন্ত্র স্থান অধিকার করে আছে।
৩৯. ভারতীয় সঙ্গীত সমাজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
সঠিক উত্তর: খ) জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় সঙ্গীত সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় ভ্রাতা এবং একজন সংগীতজ্ঞ, নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী ছিলেন। তিনি বাংলা সংগীতের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় সঙ্গীত সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় ভ্রাতা এবং একজন সংগীতজ্ঞ, নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী ছিলেন। তিনি বাংলা সংগীতের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
৪০. ‘আমরা করব জয়’ (We shall overcome) গানের অনুবাদক কে?
সঠিক উত্তর: গ) শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আমরা করব জয়’ (We shall overcome) গানের বাংলা অনুবাদ করেন। এই গানটি মার্কিন গৃহযুদ্ধকালীন শ্রমিকদের গান থেকে উদ্ভূত এবং পরে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আমরা করব জয়’ (We shall overcome) গানের বাংলা অনুবাদ করেন। এই গানটি মার্কিন গৃহযুদ্ধকালীন শ্রমিকদের গান থেকে উদ্ভূত এবং পরে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৪১. বাংলায় ‘খেয়াল’ চর্চা শুরু করেন কে?
সঠিক উত্তর: খ) রঘুনাথ রায়
রঘুনাথ রায় বাংলায় খেয়ালের চর্চা শুরু করেন। তিনি ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় খেয়াল ধারার প্রবর্তন করেন। খেয়াল হলো উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি প্রধান ধারা।
রঘুনাথ রায় বাংলায় খেয়ালের চর্চা শুরু করেন। তিনি ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় খেয়াল ধারার প্রবর্তন করেন। খেয়াল হলো উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি প্রধান ধারা।
৪২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম সংগীতশিক্ষক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: গ) বিষ্ণুচন্দ্র চক্রবর্তী
বিষ্ণুচন্দ্র চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম সংগীতশিক্ষক ছিলেন। পরে রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন সংগীতজ্ঞের সংস্পর্শে এসে নিজের অনন্য সংগীত ধারা তৈরি করেন যা পরে রবীন্দ্রসংগীত নামে পরিচিত।
বিষ্ণুচন্দ্র চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম সংগীতশিক্ষক ছিলেন। পরে রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন সংগীতজ্ঞের সংস্পর্শে এসে নিজের অনন্য সংগীত ধারা তৈরি করেন যা পরে রবীন্দ্রসংগীত নামে পরিচিত।
৪৩. অপেরা গানের প্রধান প্রচারক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: খ) মনোমোহন বসু
মনোমোহন বসু অপেরা গানের প্রধান প্রচারক ছিলেন। অপেরা গান পাশ্চাত্য সংগীতের প্রভাবে বাংলায় প্রচলিত হয় এবং মনোমোহন বসু এই ধারার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মনোমোহন বসু অপেরা গানের প্রধান প্রচারক ছিলেন। অপেরা গান পাশ্চাত্য সংগীতের প্রভাবে বাংলায় প্রচলিত হয় এবং মনোমোহন বসু এই ধারার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
৪৪. জুড়ির গান প্রবর্তন করেন কে?
সঠিক উত্তর: খ) মদনমোহন চট্টোপাধ্যায়
মদনমোহন চট্টোপাধ্যায় জুড়ির গান প্রবর্তন করেন। জুড়ি গান মূলত প্রেম ও বিচ্ছেদের বিষয় নিয়ে রচিত একটি লৌকিক গানের ধারা।
মদনমোহন চট্টোপাধ্যায় জুড়ির গান প্রবর্তন করেন। জুড়ি গান মূলত প্রেম ও বিচ্ছেদের বিষয় নিয়ে রচিত একটি লৌকিক গানের ধারা।
৪৫. ‘টপ্পা’ গানের প্রচলন করেন কে?
সঠিক উত্তর: গ) নিধিবাবু
নিধিবাবু (রামনিধি গুপ্ত) টপ্পা গানের প্রচলন করেন। তিনি ১৭৪১-১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন এবং বাংলা টপ্পার জনক হিসেবে স্বীকৃত। টপ্পা গান মূলত উত্তর ভারতীয় সংগীতের একটি ধারা।
নিধিবাবু (রামনিধি গুপ্ত) টপ্পা গানের প্রচলন করেন। তিনি ১৭৪১-১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন এবং বাংলা টপ্পার জনক হিসেবে স্বীকৃত। টপ্পা গান মূলত উত্তর ভারতীয় সংগীতের একটি ধারা।
৪৬. একজন বিখ্যাত আখড়াই গানের শিল্পী হলেন?
সঠিক উত্তর: খ) রামনিধি গুপ্ত
রামনিধি গুপ্ত (নিধিবাবু) একজন বিখ্যাত আখড়াই গানের শিল্পী। আখড়াই গান মূলত টপ্পার একটি বিশেষ রূপ যা নিধিবাবুর হাতে বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
রামনিধি গুপ্ত (নিধিবাবু) একজন বিখ্যাত আখড়াই গানের শিল্পী। আখড়াই গান মূলত টপ্পার একটি বিশেষ রূপ যা নিধিবাবুর হাতে বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
৪৭. ‘ঠুংরি’ গানের প্রবর্তক হিসেবে কাকে গণ্য করা হয়?
সঠিক উত্তর: খ) নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ
নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ ঠুংরি গানের প্রবর্তক হিসেবে গণ্য করা হয়। ঠুংরি হলো উত্তর ভারতীয় হালকা শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি ধারা যা খেয়ালের থেকে সহজ ও ছন্দময়।
নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ ঠুংরি গানের প্রবর্তক হিসেবে গণ্য করা হয়। ঠুংরি হলো উত্তর ভারতীয় হালকা শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি ধারা যা খেয়ালের থেকে সহজ ও ছন্দময়।
৪৮. পাঁচালী ও কথকতারীতির সঙ্গে কীর্তন মিশিয়ে কোন গান তৈরি হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: গ) ঢপ কীর্তন
ঢপ কীর্তন পাঁচালী ও কথকতারীতির সঙ্গে কীর্তন মিশিয়ে তৈরি হয়েছিল। রূপচাঁদ অধিকারী এই ধারার প্রবর্তক। এতে নৃত্য ও অভিনয়েরও প্রাধান্য ছিল।
ঢপ কীর্তন পাঁচালী ও কথকতারীতির সঙ্গে কীর্তন মিশিয়ে তৈরি হয়েছিল। রূপচাঁদ অধিকারী এই ধারার প্রবর্তক। এতে নৃত্য ও অভিনয়েরও প্রাধান্য ছিল।
৪৯. পক্ষীর দলের সবচেয়ে বিখ্যাত সদস্য বা গায়ক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: খ) রূপচাঁদ পক্ষী
রূপচাঁদ পক্ষী পক্ষীর দলের সবচেয়ে বিখ্যাত সদস্য ছিলেন। পক্ষীর দল মূলত একদল লৌকিক গায়ক যারা বিভিন্ন মেলা ও উৎসবে গান পরিবেশন করতেন।
রূপচাঁদ পক্ষী পক্ষীর দলের সবচেয়ে বিখ্যাত সদস্য ছিলেন। পক্ষীর দল মূলত একদল লৌকিক গায়ক যারা বিভিন্ন মেলা ও উৎসবে গান পরিবেশন করতেন।
৫০. বাংলা সংগীতে রাগ-রাগিনীর সূত্রপাত ঘটে কোন রচনায়?
সঠিক উত্তর: খ) চর্যাগীতি
চর্যাগীতিতে বাংলা সংগীতে রাগ-রাগিনীর সূত্রপাত ঘটে। চর্যাপদে মোট ১২টি রাগ ও রাগিনীর উল্লেখ পাওয়া যায় যা বাংলা সংগীতে রাগ-রাগিনীর প্রাচীনতম প্রয়োগের প্রমাণ।
চর্যাগীতিতে বাংলা সংগীতে রাগ-রাগিনীর সূত্রপাত ঘটে। চর্যাপদে মোট ১২টি রাগ ও রাগিনীর উল্লেখ পাওয়া যায় যা বাংলা সংগীতে রাগ-রাগিনীর প্রাচীনতম প্রয়োগের প্রমাণ।
বিভিন্ন গানের ধারা ও ইতিহাস (প্রশ্ন ৫১-৭৫)
৫১. সুন্দরবনের বাঘের দেবতা দক্ষিণরায়কে নিয়ে লেখা কাব্য কোনটি?
সঠিক উত্তর: গ) রায়মঙ্গল
রায়মঙ্গল সুন্দরবনের বাঘের দেবতা দক্ষিণরায়কে নিয়ে লেখা কাব্য। দক্ষিণরায় বা বনবিদ্যাধর সুন্দরবনের বাঘদের অধিপতি হিসেবে কল্পিত এক দেবতা। এই কাব্যে বাঘ ও বনজীবনের বিবরণ পাওয়া যায়।
রায়মঙ্গল সুন্দরবনের বাঘের দেবতা দক্ষিণরায়কে নিয়ে লেখা কাব্য। দক্ষিণরায় বা বনবিদ্যাধর সুন্দরবনের বাঘদের অধিপতি হিসেবে কল্পিত এক দেবতা। এই কাব্যে বাঘ ও বনজীবনের বিবরণ পাওয়া যায়।
৫২. কীর্তন গানের ক্ষেত্রে কোন বাদ্যযন্ত্রটি অবশ্য প্রয়োজনীয়?
সঠিক উত্তর: গ) শ্রীখোল
শ্রীখোল কীর্তন গানের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র। এটি একটি মৃদঙ্গজাতীয় বাদ্যযন্ত্র যা কীর্তন পরিবেশনার সময় তাল নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। কীর্তনে শ্রীখোল, করতাল, তবলা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োগ দেখা যায়।
শ্রীখোল কীর্তন গানের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র। এটি একটি মৃদঙ্গজাতীয় বাদ্যযন্ত্র যা কীর্তন পরিবেশনার সময় তাল নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। কীর্তনে শ্রীখোল, করতাল, তবলা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োগ দেখা যায়।
৫৩. আধুনিক পাঁচালীর রূপকার ছিলেন কারা?
সঠিক উত্তর: খ) লক্ষ্মীকান্ত বিশ্বাস ও গঙ্গানারায়ণ নস্কর
লক্ষ্মীকান্ত বিশ্বাস ও গঙ্গানারায়ণ নস্কর আধুনিক পাঁচালীর রূপকার ছিলেন। তারা পাঁচালী গানকে আধুনিক রূপ দেন এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে এর সমন্বয় ঘটান।
লক্ষ্মীকান্ত বিশ্বাস ও গঙ্গানারায়ণ নস্কর আধুনিক পাঁচালীর রূপকার ছিলেন। তারা পাঁচালী গানকে আধুনিক রূপ দেন এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে এর সমন্বয় ঘটান।
৫৪. পাঁচালী গানে প্রথম শাস্ত্রীয় রাগ ও তালের ব্যবহার করেন কে?
সঠিক উত্তর: খ) লক্ষ্মীকান্ত বিশ্বাস
লক্ষ্মীকান্ত বিশ্বাস পাঁচালী গানে প্রথম শাস্ত্রীয় রাগ ও তালের ব্যবহার করেন। তিনি পাঁচালী গানকে লৌকিক থেকে শাস্ত্রীয় মর্যাদায় উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।
লক্ষ্মীকান্ত বিশ্বাস পাঁচালী গানে প্রথম শাস্ত্রীয় রাগ ও তালের ব্যবহার করেন। তিনি পাঁচালী গানকে লৌকিক থেকে শাস্ত্রীয় মর্যাদায় উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।
৫৫. হাফ-আখড়াই গানের জন্ম দেন কে?
সঠিক উত্তর: গ) মোহনচাঁদ বসু
মোহনচাঁদ বসু হাফ-আখড়াই গানের জন্ম দেন। হাফ-আখড়াই আখড়াই গানের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ যা তুলনামূলকভাবে কম সময় ধরে পরিবেশিত হয়।
মোহনচাঁদ বসু হাফ-আখড়াই গানের জন্ম দেন। হাফ-আখড়াই আখড়াই গানের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ যা তুলনামূলকভাবে কম সময় ধরে পরিবেশিত হয়।
৫৬. ‘যাত্রা’ শব্দটির বর্তমান অর্থপ্রয়োগ প্রথম কোথায় দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: গ) কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে
‘যাত্রা’ শব্দটির বর্তমান অর্থপ্রয়োগ প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে দেখা যায়। যাত্রা মূলত এক ধরনের নাট্য পরিবেশনা যা গান, নৃত্য ও অভিনয়ের সমন্বয়ে গঠিত।
‘যাত্রা’ শব্দটির বর্তমান অর্থপ্রয়োগ প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে দেখা যায়। যাত্রা মূলত এক ধরনের নাট্য পরিবেশনা যা গান, নৃত্য ও অভিনয়ের সমন্বয়ে গঠিত।
৫৭. যাত্রা গানের প্রচলন কবে থেকে শুরু হয়?
সঠিক উত্তর: গ) ষোড়শ শতাব্দীতে
যাত্রা গানের প্রচলন ষোড়শ শতাব্দীতে শুরু হয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময় থেকে যাত্রা নাট্যের উৎপত্তি হয় এবং পরে এটি বাংলার জনপ্রিয় লৌকিক নাট্য ধারায় পরিণত হয়।
যাত্রা গানের প্রচলন ষোড়শ শতাব্দীতে শুরু হয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময় থেকে যাত্রা নাট্যের উৎপত্তি হয় এবং পরে এটি বাংলার জনপ্রিয় লৌকিক নাট্য ধারায় পরিণত হয়।
৫৮. রশিদ খান কোন গানের ধারায় বিশেষভাবে খ্যাত?
সঠিক উত্তর: খ) বাংলা খেয়াল
রশিদ খান বাংলা খেয়াল ধারায় বিশেষভাবে খ্যাত। তিনি একজন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ছিলেন এবং বাংলা খেয়ালের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
রশিদ খান বাংলা খেয়াল ধারায় বিশেষভাবে খ্যাত। তিনি একজন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ছিলেন এবং বাংলা খেয়ালের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
৫৯. বাংলা ঠুংরির গায়ক হিসেবে নীচের কে বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: গ) বেগম আখতার
বেগম আখতার বাংলা ঠুংরির একজন বিখ্যাত গায়িকা। তিনি ১৯১৪-১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন এবং ঠুংরি ও দাদরা ধারায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন।
বেগম আখতার বাংলা ঠুংরির একজন বিখ্যাত গায়িকা। তিনি ১৯১৪-১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন এবং ঠুংরি ও দাদরা ধারায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন।
৬০. বাংলায় ‘আকারমাত্রিক স্বরলিপি’-র প্রবর্তন করেন কে?
সঠিক উত্তর: গ) জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় ‘আকারমাত্রিক স্বরলিপি’-র প্রবর্তন করেন। এই স্বরলিপি পদ্ধতি বাংলা গানের সংরক্ষণ ও প্রচারে বিপ্লবী পরিবর্তন আনে।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় ‘আকারমাত্রিক স্বরলিপি’-র প্রবর্তন করেন। এই স্বরলিপি পদ্ধতি বাংলা গানের সংরক্ষণ ও প্রচারে বিপ্লবী পরিবর্তন আনে।
৬১. বাংলা গানের ‘সঞ্চারী’-র প্রবর্তন করেন কে?
সঠিক উত্তর: গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা গানের ‘সঞ্চারী’-র প্রবর্তন করেন। সঞ্চারী হলো এক ধরনের সংক্ষিপ্ত সংগীত রচনা যা রবীন্দ্রনাথ তার নাটক ও অন্যান্য রচনায় ব্যবহার করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা গানের ‘সঞ্চারী’-র প্রবর্তন করেন। সঞ্চারী হলো এক ধরনের সংক্ষিপ্ত সংগীত রচনা যা রবীন্দ্রনাথ তার নাটক ও অন্যান্য রচনায় ব্যবহার করেছিলেন।
৬২. ‘নবজীবনের গান’ কার রচনা?
সঠিক উত্তর: খ) জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র
‘নবজীবনের গান’ জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের রচনা। জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র একজন বিখ্যাত গীতিকার ও সুরকার ছিলেন যিনি বাংলা গণসংগীত আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
‘নবজীবনের গান’ জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের রচনা। জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র একজন বিখ্যাত গীতিকার ও সুরকার ছিলেন যিনি বাংলা গণসংগীত আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
৬৩. বাংলার একমাত্র সংগীত ঘরনা হিসেবে কোনটি স্বনামধন্য?
সঠিক উত্তর: খ) বিষ্ণুপুর ঘরনা
বিষ্ণুপুর ঘরনা বাংলার একমাত্র সংগীত ঘরনা হিসেবে স্বনামধন্য। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এই ঘরনার উৎপত্তি। মল্লরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ঘরনা বিকশিত হয় এবং এতে দ্রুপদ, দ্রম, খেয়াল, ঠুংরি প্রভৃতি পরিবেশিত হয়।
বিষ্ণুপুর ঘরনা বাংলার একমাত্র সংগীত ঘরনা হিসেবে স্বনামধন্য। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এই ঘরনার উৎপত্তি। মল্লরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ঘরনা বিকশিত হয় এবং এতে দ্রুপদ, দ্রম, খেয়াল, ঠুংরি প্রভৃতি পরিবেশিত হয়।
৬৪. ‘গীতরত্ন’ গীতি সংকলনটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: ক) রামনিধি গুপ্ত
রামনিধি গুপ্ত (নিধিবাবু) ‘গীতরত্ন’ গীতি সংকলনটির রচয়িতা। এই সংকলনে টপ্পা ও আখড়াই গানের বিভিন্ন রচনা সংকলিত রয়েছে।
রামনিধি গুপ্ত (নিধিবাবু) ‘গীতরত্ন’ গীতি সংকলনটির রচয়িতা। এই সংকলনে টপ্পা ও আখড়াই গানের বিভিন্ন রচনা সংকলিত রয়েছে।
৬৫. ‘মোদের গরব মোদের আশা / আ মরি বাংলা ভাষা’—গানটি কার লেখা?
সঠিক উত্তর: গ) অতুলপ্রসাদ সেন
‘মোদের গরব মোদের আশা / আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটি অতুলপ্রসাদ সেনের লেখা। এই গানটি বাংলা ভাষাপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
‘মোদের গরব মোদের আশা / আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটি অতুলপ্রসাদ সেনের লেখা। এই গানটি বাংলা ভাষাপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
৬৬. বাংলা সাহিত্যে ‘কান্তকবি’ নামে কে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: খ) রজনীকান্ত সেন
রজনীকান্ত সেন বাংলা সাহিত্যে ‘কান্তকবি’ নামে পরিচিত। তিনি ১৮৬৫-১৯১০ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। তার হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক গান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে স্বতন্ত্র স্থান অধিকার করে আছে।
রজনীকান্ত সেন বাংলা সাহিত্যে ‘কান্তকবি’ নামে পরিচিত। তিনি ১৮৬৫-১৯১০ খ্রিস্টাব্দে জীবিত ছিলেন। তার হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক গান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে স্বতন্ত্র স্থান অধিকার করে আছে।
৬৭. ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই’—গানটি কার রচনা?
সঠিক উত্তর: গ) রজনীকান্ত সেন
‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই’ গানটি রজনীকান্ত সেনের রচনা। এই গানটি স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেয় এবং বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই’ গানটি রজনীকান্ত সেনের রচনা। এই গানটি স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেয় এবং বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
৬৮. ‘যদি কুমড়ার মতো চালে ধরে রত’—হাসির গানটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: গ) রজনীকান্ত সেন
‘যদি কুমড়ার মতো চালে ধরে রত’ হাসির গানটির রচয়িতা রজনীকান্ত সেন। তিনি তার হাস্যরসাত্মক গানের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি ও দুর্বলতাকে ব্যঙ্গ করতেন।
‘যদি কুমড়ার মতো চালে ধরে রত’ হাসির গানটির রচয়িতা রজনীকান্ত সেন। তিনি তার হাস্যরসাত্মক গানের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি ও দুর্বলতাকে ব্যঙ্গ করতেন।
৬৯. "গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে" গানটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে" গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই গানটি রবীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত গানগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং তার সুগভীর প্রেম ও প্রকৃতিপ্রেমের পরিচয় বহন করে।
"গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে" গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই গানটি রবীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত গানগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং তার সুগভীর প্রেম ও প্রকৃতিপ্রেমের পরিচয় বহন করে।
৭০. ‘The Disguise’ নাটকের বাংলা অনুবাদ ‘কাল্পনিক সংবদল’-এ কার গান ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: খ) ভারতচন্দ্রের
‘The Disguise’ নাটকের বাংলা অনুবাদ ‘কাল্পনিক সংবদল’-এ ভারতচন্দ্রের গান ব্যবহৃত হয়। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি ও গীতিকার যিনি অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
‘The Disguise’ নাটকের বাংলা অনুবাদ ‘কাল্পনিক সংবদল’-এ ভারতচন্দ্রের গান ব্যবহৃত হয়। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি ও গীতিকার যিনি অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
৭১. সত্যজিৎ রায়ের ‘জলসাঘর’ ছবির সংগীত নির্দেশক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: খ) বিলায়েৎ খাঁ
বিলায়েত খাঁ সত্যজিৎ রায়ের ‘জলসাঘর’ (১৯৫৮) ছবির সংগীত নির্দেশক ছিলেন। বিলায়েত খাঁ একজন বিশ্ববিখ্যাত সরোদ বাদক ছিলেন এবং এই ছবিতে তার সরোদ বাদন অমর হয়ে আছে।
বিলায়েত খাঁ সত্যজিৎ রায়ের ‘জলসাঘর’ (১৯৫৮) ছবির সংগীত নির্দেশক ছিলেন। বিলায়েত খাঁ একজন বিশ্ববিখ্যাত সরোদ বাদক ছিলেন এবং এই ছবিতে তার সরোদ বাদন অমর হয়ে আছে।
৭২. গীতিকার হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের আত্মপ্রকাশ ঘটে কোন ছবিতে?
সঠিক উত্তর: গ) গুপী গাইন বাঘা বাইন
গীতিকার হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ (১৯৬৯) ছবিতে। এই ছবিতে তিনি "ভূতের রাজা দিলো বর" প্রভৃতি অমর গানের গীতিকার ও সুরকার ছিলেন।
গীতিকার হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ (১৯৬৯) ছবিতে। এই ছবিতে তিনি "ভূতের রাজা দিলো বর" প্রভৃতি অমর গানের গীতিকার ও সুরকার ছিলেন।
৭৩. ঋত্বিক ঘটকের ‘অযান্ত্রিক’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেন কে?
সঠিক উত্তর: গ) আলি আকবর খাঁ
আলি আকবর খাঁ ঋত্বিক ঘটকের ‘অযান্ত্রিক’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেন। আলি আকবর খাঁ একজন বিশ্ববিখ্যাত সরোদ বাদক এবং পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রাপ্ত।
আলি আকবর খাঁ ঋত্বিক ঘটকের ‘অযান্ত্রিক’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেন। আলি আকবর খাঁ একজন বিশ্ববিখ্যাত সরোদ বাদক এবং পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রাপ্ত।
৭৪. ‘সুবর্ণরেখা’ ও ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবি দুটির সংগীত পরিচালনা করেন কে?
সঠিক উত্তর: গ) বাহাদুর খাঁ
বাহাদুর খাঁ ‘সুবর্ণরেখা’ ও ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবি দুটির সংগীত পরিচালনা করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত সরোদ বাদক এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
বাহাদুর খাঁ ‘সুবর্ণরেখা’ ও ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবি দুটির সংগীত পরিচালনা করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত সরোদ বাদক এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
৭৫. নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কিশোর কুমারের আত্মপ্রকাশ ঘটে কোন ছবিতে?
সঠিক উত্তর: গ) জিদ্দি
নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কিশোর কুমারের আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘জিদ্দি’ ছবিতে। এরপর তিনি ‘আরাধনা’ (১৯৬৯) ছবিতে রাজেশ খান্নার জন্য গান গেয়ে এক অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কিশোর কুমারের আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘জিদ্দি’ ছবিতে। এরপর তিনি ‘আরাধনা’ (১৯৬৯) ছবিতে রাজেশ খান্নার জন্য গান গেয়ে এক অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
উপসংহার
উপসংহার: এই মক টেস্টে উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা তৃতীয় সেমেস্টারের বাংলা গানের ইতিহাস অধ্যায়ের মোট ৭৫টি গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন সংকলিত করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের পাশাপাশি বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে যা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সহায়ক হবে। বাংলা গানের ইতিহাস প্রাচীন চর্যাপদ থেকে শুরু করে আধুনিক ব্যান্ড সংগীত পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অধ্যায়ে চর্যাগীতি, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, পদাবলি, কীর্তন, পাঁচালী, টপ্পা, খেয়াল, ঠুংরি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, বাউল, ব্রতচারী, গণসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, আধুনিক গান এবং ব্যান্ড সংগীতসহ বিভিন্ন ধারার গান ও সংগীতজ্ঞদের সম্পর্কে জানা হয়। এই প্রশ্নগুলো SLST, SSC, MSC এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। নিয়মিত অনুশীলন ও পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন